বিদেশে উচ্চশিক্ষা কেন করব?

শিশুর জন্মে যেমন সে জানেনা তার ভালো-মন্দ, তাইতো শুরু থেকে বাবা-মা এই বিশেষ গুরুদায়িত্বটি পালন করেন ভালোবাসার বন্ধনে।

বাবা-মাকে পাওয়া আমাদের চয়েজ নয়, এটা জন্মগতভাবে পাওয়া, কিন্তু শশুর-শাশুড়ি এটা কিন্তু চয়েজ, কারণ এখানে আমরা প্রভাব বিস্তার করতে পারি।

একই ভাবে জন্ম গ্রহণ করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। তবে জন্মের পরের সময়কে চেন্জ করার সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা কিন্তু আমাদের হাতে।

এটার পরিবর্তন করার জন্য আমাদের সার্বিকভাবে চেষ্টা করা দরকার এবং তা পেতে হলে স্ট্রিটিস স্মার্ট হতে হবে জীবনের শুরু থেকে। আমি এর আগে লিখেছি বিশ্ব নাগরিক হতে হলে কী দরকার?

তার আগে ভাবতে হবে ব্যক্তির চিন্তাধারা কী? আদৌ কী আমি বিশ্ব নাগরিক হতে চাই? নাকি বাবা-মা চান তাই আমি এটা করছি! জীবনের একটি নির্দিষ্ট স্টেজে আমাদের সিদ্ধান্তে আসতে হবে ব্যক্তিগত ভাবে আমি কী চাই!

যখনই এই সিদ্ধান্ত পরিস্কার তখন কীভাবে মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে, সেটাই হবে প্রশ্ন। কিছুটা ফিল্ড স্টাডি করতে হবে কি সুযোগ-সুবিধা আছে বা বাধাবিঘ্ন রয়েছে সে বিষয় জানতে হবে।

ক) এখন যদি আমার গোলস অ্যান্ড অবজেক্টিভস হয় যে বিদেশে পড়তে যেতে চাই, তাহলে শুরু থেকে মাইন্ডসেট করতে হবে যে আমি প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যাব।

খ) কেন দেশের লেখা-পড়া বাদ দিয়ে বা প্রাথমিক পর্যায়ের লেখা পড়া শেষ করে হঠাৎ বিদেশে পড়াশুনো করার প্রবণতা এলো? দেশে কী সেই শিক্ষার অভাব বা প্রশিক্ষণ নেই যে বাইরে গিয়ে তা অর্জন করতে হবে?

নাকি বাবা-মার আর্থিক সচ্ছলতা ভালো এবং একধরণের ফ্যাশান তাই বাইরে পড়তে হবে? এখন ‘ক’ এবং ‘খ’ দুটো ভিন্ন ধরনের গোলস অ্যান্ড অবজেক্টিভস।

‘ক’-গ্রুপের শিক্ষার্থীরা সব সময় কোনো না কোনো ভাবে জীবনের সঠিক পথ খুঁজে বের করে তারা সফল হয়ে থাকে যা ‘খ’-গ্রুপের ক্ষেত্রে তেমনটি নজরে পড়ে না।

আজ বর্ণনা করব ইউরোপে পড়াশুনো করার জন্য কী কী প্রয়োজন এবং কখন বা কোন লেভেলে পড়াশুনো করার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে সুইডেনে পড়াশুনো করতে হলে TOEFL (Test of English as a Foreign Language) বা IELTS (English language teaching for learner success in vocabulary development, oral proficiency, reading, and spelling) করতে হবে।

প্রতি মাসে ৬৫০০ সুইডিস ক্রোনার (১ ক্রোনা=বাংলা ১০ টাকা) দেখাতে হবে। বিস্তারিত জানতে Swedish migration Agency’s Website এ গেলে সব বিষয়ে জানা যাবে এবং গুগলের মাধ্যমে বেশির ভাগ ইনফরমেশন জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

নরমালি বিদেশি শিক্ষার্থীরা যখন গেস্ট স্টুডেন্ট হিসাবে সুইডেনে আসে প্রাথমিক পর্য়ায়ে তারা সুইডিস হোস্ট ফ্যামেলি পেয়ে থাকে যা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজ করে।

সুইডিস হোস্ট ফ্যামিলির সমন্বয়ে এদের কালচার ও ট্রেডিশন সম্পর্কে জানার যথেস্ট সুযোগ হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা খুবই সুন্দর এবং সুইডিস ছাত্র-ছাত্রীরা সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে থাকে।

সুইডেন ছাড়াও ইউরোপের অনেক দেশে ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগ রয়েছে যার কারণে নিজের দায়িত্বে কাজ খুঁজে পেলে পড়াশুনো বা থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করে নিজের পায়ে দাড়িয়ে লেখা-পড়া ম্যানেজ করা যায়।

যারা সত্যিকারে মোটিভেটেড তাদের পক্ষে এটা সম্ভব। বাংলাদেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইউরোপে আসার পরও আন্ডার গ্রাজুয়েট লেভেলে যুগপোযোগী প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারছে না।

বিধায় তারা কর্মের সমন্বয়ে কোনরকম লেখাপড়া করে বিদেশে সেটেল হবার চেষ্টাই কঠিন পরিশ্রম করে চলছে এবং কোনো না কোনোভাবে তারা ম্যানেজ করছে।

আন্ডার গ্রাজুয়েট লেভেলে যারা পড়াশুনা করতে এসেছে এদের মধ্যে খুব কম শিক্ষার্থীই বলতে হবে উচ্চশিক্ষাই শিক্ষিত হতে পেরেছে।

বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স শেষ করে যারা স্কলারশিপ বা বৃত্তি পেয়ে বিদেশে পড়াশুনোর জন্য এসেছে এদের বেশির ভাগই প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরেছে বা এখানে থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে কর্ম নিয়ে।

কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে তা হল যদি কারো আত্নীয় বা ভালো গার্ডিয়ান থাকে বিদেশে এবং তারা যদি স্পন্সর করে সঙ্গে গাইড দিতে পারে শতভাগ, তখন আন্ডার গ্রাজুয়েটেও পড়া সম্ভব।

কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে তা হল যদি কারো আত্নীয় বা ভালো গার্ডিয়ান থাকে বিদেশে এবং তারা যদি স্পন্সর করে সঙ্গে গাইড দিতে পারে শতভাগ, তখন আন্ডার গ্রাজুয়েটেও পড়া সম্ভব।

এছাড়া যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ পাওয়া যেতে পারে। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। আমার ভাতিজাসহ আরও কিছু ছাত্র কিন্তু ভালো করতে পেরেছে, কারণ আমি এবং আমার বড় ভাই তেমনটি দায়িত্ব নিতে পেরেছিলাম বলে।

তাদের সঙ্গে শর্ত ছিল তারাও একদিন আমাদের মত করে আলোর ফেরিওয়ালা হবে এবং অন্যকে বিদেশে পড়তে আসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়াবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা তাদের কথা রাখেনি।

তবে হ্যাঁ তারা সবাই লেখা-পড়া শিখে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ থেকে বিয়ে করে আর কিছু না করুক আরেকটি পরিবারের হাত ধরেছে। আমার লেখাতে আমি স্পেসিফিকভাবে ইউরোপের শিক্ষার নিয়ম কানুনগুলোই তুলে ধরেছি।

এখানে আমেরিকা বা কানাডার বিষয় কিছু উল্লেখ করিনি যা হয়ত পরের লিখাতে জানাব। বাংলাদেশ থেকে সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে যদি কেউ সত্যিকারে স্বপ্ন দেখে থাকে যে সুশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে মানুষের মত মানুষ হবে।

আশাকরি সে স্বপ্ন যেন জাগ্রত অবস্থায় সে দেখে, তাহলে তা বাস্তবে রুপ দেওয়া সম্ভব হবে। মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশেই যখন থাকব তা যদি মাতৃভূমির চেয়ে ভাল না হয়, তাহলে মাতৃভূমি ছাড়া ঠিক হবে বলে আমি মনে করি না।

কারণ বিদেশে ভালো থাকতে না পারলে দেশের কথা ভাবা বা দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র মনকে বোঝানো যাবে যে অন্যের ধ্বংস না করে বিদেশে এসে পাড়ি জমানো হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য।

যাই কিছু করি না কেন, যেখানেই থাকি না কেন, মনে রাখতে হবে জীবনের মূল্য কী এবং আমার কন্ট্রিবিউশন সমাজের জন্য কী? যেখানেই শিক্ষা প্রশিক্ষণ হোক না কেন তা যেন সুশিক্ষা হয়।

এবং সেই সুশিক্ষা যেন মনের দরিদ্রতা এবং কলুষতা দূর করে। এই সচেতনতা যদি থাকে তবেই হবে পৃথিবীতে জন্মের এবং বেঁচে থাকার স্বার্থকতা। মানুষের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই এমনটি কামনা করে, আমি রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে।

সূত্র: যুগান্তর

Add comment

Khaled Kazim

Avatar photo

আমি, মোহাম্মদ খালেদ কাজিম, একজন স্বপ্নদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বাস করি যে প্রতিটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনকে উন্নত করা এবং সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়া। আমার পথচলা শুরু হয়েছিল মানুষের সম্ভাবনাকে সঠিক পথে চালিত করার এক দৃঢ় প্রত্যয় থেকে, যা আজ আমাকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। আমার এই যাত্রার বিস্তারিত বিবরণ জানতে ভিজিট করুন আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট: www.khaledkazim.com।
​আমার উদ্যোক্তা জীবনের ভিত্তি গড়ে উঠেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। আমি বাংলাদেশের দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—ওয়েস্টপয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ এবং আল এহসান একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার বিশ্বাস, সঠিক শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেবল একটি মজবুত ভিত্তিই তৈরি করে না, বরং তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
​২০০৭ সালে বাংলাদেশের সিলেট থেকে গ্লোবাল ইমিগ্রেশন নামে আমার প্রথম বাণিজ্যিক উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা বর্তমানে Kkr Education & Tour Service (KKRETS) নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল মানুষকে তাদের বৈশ্বিক স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা—শিক্ষা, ভ্রমণ এবং অভিবাসনের মাধ্যমে। বর্তমানে KKRETS বাংলাদেশ, ফ্রান্স এবং ইউকে-তে নিবন্ধিত হয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করে চলেছে।
​এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, ২০১৯ সালে জন্ম নেয় আমার দ্বিতীয় প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, Gothi Technologies। Kkr-এর মাধ্যমে মানুষকে পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করার পর আমি উপলব্ধি করি, প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসাকেও একইভাবে বৈশ্বিক এবং শক্তিশালী করা সম্ভব। Gothi Technologies-এর লক্ষ্য হলো অত্যাধুনিক সিস্টেম কনসাল্টিং এবং প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও নিরাপদ করতে সহায়তা করা। এই প্রতিষ্ঠানটিও বর্তমানে বাংলাদেশ, ফ্রান্স এবং ইউকে-তে নিবন্ধিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
​আমার উদ্যোগগুলো শুধু পেশাদার জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবিক সংযোগ এবং কমিউনিটি গঠনেও বিস্তৃত। প্যারিসের অদূরে পঁতাঁ (Pantin)-তে আমার একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যার নাম ishtikutum। এর ঠিকানা হলো: 14 rue berthier, 93500 Pantin, France। এটি কেবল একটি রেস্টুরেন্ট নয়, বরং এমন একটি কেন্দ্র যেখানে মানুষ একসাথে হয়ে খাদ্য, সংস্কৃতি এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়।
​আমার প্রতিটি উদ্যোগ—শিক্ষা, ভ্রমণ, প্রযুক্তি এবং রেস্টুরেন্ট—ভিন্ন ভিন্ন হলেও, তারা একটি সাধারণ সুতোয় সংযুক্ত: স্বপ্ন এবং সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। আমি এই বৈচিত্র্যময় উদ্যোগগুলোর নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও মানুষের জীবন ও কমিউনিটিকে আরও উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
​আমার পেশাদার যাত্রা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এবং আমার সাথে যুক্ত থাকতে আমার LinkedIn প্রোফাইলটি ফলো করার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
#Mohammed-Khaled-Kazim #Gothi-Technologies #KKR

Join With Me