বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ধর্ষন, যা থেকে শিশু থেকে শুরু করে বুড়ো পর্যন্ত কেউই রেহায় পাচ্ছে না।এখন এর কারণ গুলো আমাদের খুঁজে বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এখন এই প্রতিকার শুধু রাষ্ট্র করলে হবেনা।এখানে আপাময় জনসাধারণের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন।তবে রাষ্ট্রের কঠোরআইন তৈরি এবং প্রয়োগ এর ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।এখন আসছি এ-ই ধর্ষন নামক মহাযজ্ঞের উৎপত্তি স্থলগুলো কোথায়।
★দেশের স্বাধীনতার পুর্বকালে ধর্ষনের প্রবনতা খুব একটা ছিল না ;
★স্বাধীনতা পরবর্তীকালে এর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে ;
★বিশেষ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এই অপকর্মে লিপ্ত থাকতে বেশি পরিমাণ দেখা যায় ;
★এটা ছাড়া ও ঘটনা যে একদম ঘটেনি তা নয়।তবে এসব ক্ষেত্রে বিচার হয়েছে। কিন্তু বাধ সাধলো রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ঘটনাগুলো;
★যখনি রাজনৈতিক চাপে বিচারহীনতা দেখা দিল তখনই হু হু করে ধর্ষনের সংখ্যা বেড়ে গেল;
★এর বাইরে আরও একটা বড় কারণ হলো অভিভাবকদের উদাসীনতা ;
★ এমন কিছু অভিভাবক আছেন ছেলে -মেয়েদের অবাদ বিচরণ করতে উদ্ভুদ্ধ করেন। ফলস্বরূপ তারা সঠিক পথে না চলে অবাধ বিচরণের কারণে ধর্ষনের মত অবস্থায় পতিত হচ্ছে ;
★আমার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মেলামেশা করছে, কোথায় অবস্থান করছে তার কোন খবর না রেখে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে যাচ্ছে । অভিভাবকদের একবার মাথায় আসেনা যে স্বাধীনতার শুভ ব্যবহার হচ্ছে না অপব্যবহার হচ্ছে ;
★বর্তমান অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহার যুব সমাজকে অস্থিতিশীল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে অবাধ ও অশ্লীল নীলছবি সমাজকে পাপিষ্ঠ বানিয়ে ফেলছে ;
★মানুষের ভিতর মনুস্বত্ববোধ লোপ পেয়ে হায়ানার স্বভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে ;এখন আসি এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুলো করতে হবে:
√নারীকে সর্বক্ষেত্রে পন্য হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে ;
√বিশেষ করে বিভিন্ন নাটক /সিনেমা, আচার-অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ উভয়কে সাবলীল এবং শালীন পোশাক -আশাক ব্যবহার করতে হবে
√সব সময় মনে রাখতে হবে এ-ই নারী আমার মা,আমার বোন,আমার স্বজন ;
√স্বল্প দৈর্ঘ নাটক /ছবির মাধ্যমে ধর্ষন এ-র কঠিন শাস্তির বিষয় গুলো প্রচার করতে হবে ; এ ক্ষেত্রে প্রিন্ট/ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার এর মাধ্যমে নারী নির্যাতনের কঠিন শাস্তির বিষয়ে জনগনকে সচেতন করতে হবে ;
√ ধর্ষনকারীর ফাঁসির মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে;
√নারি নির্যাতনের বৈসম্যমুলক সব আইন বাতিলের মাধ্যমে যুগোপযোগী আইন প্রনয়ন করা একান্ত আবশ্যক;
√বিশেষষ্গদের নিয়ে নারী নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুনাল করা একান্ত আবশ্যক ;
√নারী নর্যাতনে গ্রাম্য সালিসি প্রথা বিলোপ করা প্রয়োজন;
√বিচারের ক্ষেত্রে সবধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে ;
√অবাধে নীল ছবির প্রদর্শন,প্রচার,প্রচারনা বন্ধ করতে হবে ;
√আমাদের সুনীপন, সুদক্ষ ও চৌকস আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক আশ্রয় -প্রশ্রয় থেকে দুরে রেখে সঠিক কাজটি করার স্বাধীনতা প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষন ও নারীনির্যাতনের ঘটনা অনেক কমে যাবে।
কাজী হাবিবুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত এনজিও নির্বাহী
